সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫

মানুষ নিজেদের রক্তাক্ত কান্ডকারখানা গুলি সিনেমাতে তুলে এনে চলচ্চিত্রের আকর্ষন ধরে রাখতে মনে হচ্ছে আজকাল যেন বেশ প্রত্যয়ী হয়ে উঠছে।

 মানুষ নিজেদের রক্তাক্ত কান্ডকারখানা গুলি সিনেমাতে তুলে এনে চলচ্চিত্রের আকর্ষন ধরে রাখতে মনে হচ্ছে আজকাল যেন বেশ প্রত্যয়ী হয়ে উঠছে।


সিনেমা দেখতে বসলেই আগের মত রহস্যের ভান্ডারে প্রবেশের মুখে বুক দূরদূর করা অনুভব এখন আর আসে না। অনেক বাছাবাছি করার পর থ্রীলার গুলিই দর্শকদের পছন্দের সারিতে উঠে আসবেই। জীবনের নানামুখী ভুমিকায় বাস্তবের প্রতিফলন পিছনে ফেলে শুধুমাত্র একটি আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু থ্রীলিং পূর্ন তিনঘন্টায় টেনে এনে আসলেই হবে না।পরিচালকের প্রযুক্তির সক্ষমতাকে অবহেলার সামিল মনে হতে পারে এসব।থ্রীলের প্রতি ঝোঁক– এটা মানবিক প্রধান একটি উইকনেসের লিঙ্ক।মানুষ এন্টারটেইন পেতে থ্রীলকে গুরুত্ব দেয়, পছন্দ করে। ভালো মানষিকতায় আগ্রহ না দেখিয়ে বানিজ্যিক কারনে এজন্য সিনেমাকে শুধু কিছুটা সময় মানষিক টানাপোড়েনের সাক্ষী হয়ে দর্শকদেরকে নজরদারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা ঠিক না। একপ্রকার ভায়োলেন্সের প্রসার মনে হতেও পারে।


ঘটনাপ্রবাহ জোড়া লাগানোর নিয়মটাই ব্যাক্তিবিশেষের রুচিগত প্রভেদ। সিরিয়াসনেস তৈরীর মধ্য দিয়ে ঘটনাকে জোড়াতালি দিয়ে হলেও বাধ্যগত ক্লাইমেক্সে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বহুল ব্যাবহৃত একটি নিয়ম। তবে খুবই হাল্কা তালের কিছু ঘটনাকে জোড়া দিয়েও কাহিনী সাজানো যায়। তবে সেক্ষেত্রে অভিনয়ও হতে হবে ঠিক সেইরকম-- অর্থাৎ কিনা ইউনিক। দর্শক যেন বুঝতে পারে এটা গতানুগতিকের বাইরের কিছু একটা অভিনয়।মনে হবে যেন সিনেমার মানুষগুলিও আলাদা ধরনের।যেন সময় এবং শব্দের সংমিশ্রন বোরিং না হয় মনে হবে যেন তারা ঠিকঠাক এ কথাটা মাথায় রেখেই অভিনয় করে যাচ্ছে। হয়তো তবু তাদের অভিনয়ে নিস্পৃহ আচরনের প্রাধান্য থাকবে, এবং তবুও হয়তো তাদের অভিনয় ভিত্তিক কাঁচা ইন্টেনশানগুলিও ঢাকা যাবে না। এভাবে ঘটনার জাল ধীরে ধীরে বুনে গেলেও পূর্নদৈর্ঘ ফিল্মের টুইস্টগুলি আকর্ষনীয় হতে পারে।কাহীনির মধ্যে মনোটনি থাকলেও সেটা হটাৎই ভেঙ্গে গিয়ে দর্শকের একদম আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হতে তখন বাধা থাকবে না কোন। অধিকন্তু নতুন কিছু উপস্থাপনার ব্যাতিক্রমের মধ্যে দিয়ে শেষ দৃশ্যটির ধারনকেও অর্থবহ করে তুলবে এটা নিশ্চিৎ।


শব্দগ্রহনও খুব গুরুত্বপূর্ন। শুধুমাত্র সাউন্ড ইফেক্টকে কেন্দ্র করেও অদ্ভুত ভালো সিনেমা তৈরী করা সম্ভব। যদিও মিউজিক্যাল ছবির জনরা আলাদা। শব্দগ্রহন যদি আধুনিক জীবনযাত্রাকে ঘিরে তৈরী করা হয় তাহলে মানুষের আত্মবিশ্বাস থাকবে যে তারা ছবি দেখতে বসে কোন অদ্ভূত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেনা মোটেই--কারো কৌতুহলী চোখে অন্ততঃ বিরক্তি আসবে না।যেমনটা হরর মুভিতে সচরাচর ঘটে থাকে। আধুনিকতার মধ্যে শুনশান প্রকৃতির কিছুটা ভারসাম্যহীনতা থাকতে পারে এব্যাপারটা মাথায় রেখেই শব্দগ্রহন আগেভাগেই সেট করতে হবে।যেন পরে টেস্ট করলেই বোঝা যাবে মুভির সাথে কতটা এডযাস্ট হচ্ছে আর কতটাই বা বোধগম্যতার মধ্যে আছে আর্ট। এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং তখন শব্দ নিয়ে  আরও এক্সপেরিমেন্ট করাও সহজ হবে।


দর্শক কেন থ্রীলার পছন্দ করে–? মানুষ যখন ছবি দেখে সেটা সবসময়েই অবসর বিনোদন নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির এ যুগে এটা একটি কম্যুনিকেশন মাধ্যম হয়ে উঠছে।যেখানে নির্ভরশীলতার প্রাধান্য বিনোদনের ইচ্ছাকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। এজন্য ছবি দেখতে বসে নিজের স্বাচ্ছন্দ ও কনফিডেন্সটুকু কেউই হারাতে চাইবে না।সবাই সময়ের মূল্য সম্বন্ধে এখন অনেক বেশী সচেতন। একজন দর্শক তাই আশাহত হতে না চাইলে সে বেছে বেছে থ্রীল আছে এমন ছবিগুলিই শুধু দেখতে চাইবে, অনেক ছবির ভীড়ে হারিয়ে যেতে চাইবে না।


সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫

The Injection Guy

 আইডিয়া একটি চমৎকার কাহিনী উপহার দিতে পারে। মানুষের মধ্যে ভালো কাজের জন্য আইডিয়ার কোন অভাব নাই।একটি সম্ভাবনা মাথায় আছে এবং সেটা বুঝতেও পারছেন এমন অনেকেরই এটা মনে হতে পারে যে কোথাও কেউই কোন ভালো কাজ করে না অথবা এর সাথে সম্পৃক্ততা একেবারেই হারিয়েছে।এখন কেবলমাত্র মানুষকে সেটা বোঝানোই বাকি। অথবা সভ্যতার মধ্যে নানা প্রকারের দূর্নীতির অনুসন্ধান করাও একটি বহুল ব্যাবহৃত পদ্ধতি আমাদের আইডিয়া সম্প্রসারনের জন্য। এমনকি আইডিয়ার বানিজ্যিক ব্যাবহারও নতুন কিছু নয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে সিনেমা মাধ্যমে আইডিয়া উম্মোচন করা কারো কারো খুবই যুক্তিসঙ্গত মনে হতেই পারে। বিনোদনের মাত্রার হিসাবে এর বানিজ্যিক সফলতা নির্ভর করবে এবং সেটাই আসল কথা। যে সভ্য মানুষ তাদের পরিবেশ সম্বন্ধে কতটা সচেতন। এবং বিরুপ প্রকৃতির মানুষেরা কিভাবে তাদের এথিকস নীতি গুলি রক্ষা করে চলছে। ধন্যবাদ বিনোদন মাধ্যমকে।

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

আমাদের সিনেমাগুলি খুবই গতানুগতিক

 কাহিনী এমন যে হিরো থাকবে। ভীলেন পরিনত হবে, বা কাহিনীর সাপোর্ট নিয়ে বাড়বে অথবা তাকে ঘিরেই তৈরী হবে ঘটনার সারাংস। এটা বিভিন্ন কাহীনির বিন্যাসে প্রাধন্য অথবা দর্শক রুচির কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়।শর্টকাট ধারনায় এটা হচ্ছে শুরু তারপর হবে অনিবার্য সংঘাত এবং সংঘর্ষ। সবশেষে প্রতিহিংসা কিংবা উত্তরন। জয় বা বিজয় এটা কেমন ক্লিশে।কাহিনীতে শেষ ভালো যার সবই ভালো এ নীতি পরিহার করে কাহিনীর শুরুটকে প্রাধান্য দিয়ে নিছক বিনোদনের উদ্দেশ্য বাতিল করে একটি কালজয়ি সিনেমা তৈর কর যায়। যেখানে বিচারের ভার সচেতনতার উপর রাখলেই ভালো। কেননা আমাদের  সামাজিক ছবিগুলির বিশাল অংশ এইসব ক্লিশের ধারাবাহিকতা। অথবা একটি স্বয়ংসম্পূর্ন ক্লাইমেক্স ধারনায় তৈরী সিনেমাগুলি।এটা তুলনামূলক সচেতন দর্শকদের পছন্দ।

যে কোন সচল কাহীনিই বানিজ্যিক প্রয়োজনে অবশ্যম্ভাবী ক্লাইমেক্স আর অবশেষে থাকবে চিন্তার খোরাক প্যারাডক্স। লেখককে তো দর্শকদের চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিতে খাটো হওয়া কিছুতেই চলবেনা। 

ডক্যুমেন্টারীতে যেহেতু খুবই সাদামাটা ঘটনা থাকে যেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যারা এটা দেখবে বা দেখছেন তাদের গোচরীভূত ছিল বলেই তারা দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এজন্য ডক্যুমেন্টারীর বানিজ্যিক ভ্যালু খুবই কম। মানুষের শিক্ষা এবং সংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলি ডক্যুমেন্টারী দেখতে আগ্রহী করে।

বর্তমান সময়টা অনেক জটিলতায় ভরা।একদম সাদামাটা সামাজিক জীবনযাপন এখনকার মানুষদের প্রথম পছন্দ নয়। অর্থনীতির টানাপোড়নে মানুষকে আগের চেয়েও বেশি স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে এযুগে। এতসব নানামুখী তৎপরতার মধ্যে সব স্মার্টদের কাছেই একটুখনি অর্থনৈতীক স্বাচ্ছন্দের প্রয়জনীয়তা পূরনই হচ্ছে মূখ্য বিষয়।দেখা যায় এজন্য মুক্তিপ্রাপ্ত রোমান্টিক ছবিগুলি এসময়ে ফ্লপ। তবে তারপরেও কথা থাকে। খুব ভালো ডায়ালগ সহকারে যদি স্ক্রিপ্ট লেখা হয় এবং স্টোরীলাইন যদি সকল প্রামান্য বিষয়গুলিকে উপেক্ষা না করে সঠিক নিয়মগুলি মেনে চলে তবে এধরনের ছবিও দর্শকপ্রিয়তা পেতে বাধ্য।

প্রযুক্তির সঙ্গে যেন বিনোদনের একটি অলিখিত যোগাযোগ রয়েছে। সিনেমা মাধ্যম শুধু দর্শকদের আনন্দ দেবার জন্যই বানিজ্যিক উদ্যেশ্যে এই সিনেজগতের শুরু থেকেই পরিচালিত। ফলে একদিন না একদিন দর্শকদের উপলব্ধিতে এই বানিজ্যিক উদ্যেশ্য পরিস্কার হবেই আর তখন বিনোদনে অভাবে ডিরেক্টরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে বাধ্য। বর্তমানে যেসকল জনরার মুভি তৈরী হচ্ছে তার মধ্যে হরর মুভি, থ্রিলার মুভির সংখ্যা অনেক। ফিল্ম নোয়া অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসময়ের সবচাইতে জনপ্রিয় মুভিগুলির বেশিরভাগই অ্যকশন ধর্মী। কোন অজ্ঞাত কারনে এ ধারাবাহিকতা এখনও অব্যহত আছে। সস্তা বিনোদনের ভারসাম্যমূলক সিনেমা সস্তা বিনোদনের ভারসাম আসাম্য রক্ষা করার মত সিনেমা গুলি ভিডিও গেমের মত প্রচন্ড ভায়োলেশনে ভর্তি কিন্তু দর্শকরা এটাই খাচ্ছে। ধীরে ধীরে দর্শকদের ভেতর থেকে অনেকে এই ভারসাম্য রক্ষা করার ছবিগুলি আর পছন্দ করছে না। ভারসাম্য রক্ষা করার এই ছবিগুলি এখন কম পছন্দ করছে দর্শক কারণ এগুলো শুধু সস্তা বিনোদন দিয়ে চলে এসবের আসলে কোন মানে নেই। 

আধুনিক যুগে অনেক মানুষের নিজেদেরই ভারসাম্য অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে। রেখেছে। তারা নিজেরাই এখন স্বল্প দৈর্ঘ্যের মিনিংফুল ছবি তৈরি করতে পারে, আরো ভালো ভালো ছবি। 

পৃথিবীতে এলিয়েন আসার কথা কিনা সেটাই তো ধরা যাচ্ছে না আর এই নিয়ে মাতামাতি করার কি ই  বা আছে। কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না। আলো আর অন্ধকারের একটি দ্বন্দ্ব চিরকাল বিদ্যমান।এটা চিরকালই চলবে। কে আলোর পথযাত্রী এটা বোঝা খুবই মুশকিল আর কারা অন্ধকারে বাস করবে জন্য যায় না।তাই তাদেরকেও শিক্ষা দেওয়াটা আরো কঠিন। এলিয়েনরা পৃথিবীতে যদি আসেও তখন তারা সকলের আগে যে কাজটা করবে সেটা হলো কুত্তার লেজটাই সোজা করে দেওয়া। যেন কেউই পৃথিবীতে আর আসতে বা যেতে না পারে। এই আসা যাওয়ার পথটা চিরকালের জন্য বন্ধ করা।

আরো কিছু ছবি আছে যে প্লেন হাইজ্যাক বা কোন কিছু হাইজ্যাক করা কিংবা কাউরে জিম্মি করে রাখা এ ধরনের ছবিগুলি আসলে দর্শকদের মধ্যে সচেতনতা বানানোর জন্য তৈরি করা হলেও আদতে এগুলোও অর্থহীন ছবি। কেননা সবার আগে বুঝতে হবে যে কার প্ল্যান উপযুক্ত কে হাইজ্যাক করলে জিততে পারবে অথবা টিকে থাকতে পারবে কিংবা সফল হবে। সেটাই ফোকাস করা উচিত।

একটা সময় ছিল যখন গোয়েন্দা ঘোরানোর ছবিগুলি অসম্ভব জনপ্রিয় ছিল যেমন জেমস বন্ডের ছবি। এখনো  যদিও জেমস বন্ডের দুই একটা ছবি মুক্তি হয় এবং সেটাও মোটামুটি বক্স অফিসে হিট ঠিক করে। কিন্তু তারপরেও এটা বলা যায় যে জেমস বন্ডের নতুন কোন সংস্করণ বা ম্যাট্রিক্স আজও পাওয়া যাচ্ছে না এবং এটা সত্যিই ভয়ানক বিপদজনক। গোয়েন্দা কাহিনীগুলো চিরকালের জন্য ইতিহাসে হারিয়ে যাবে কিনা সেটা বোঝাটা সমস্যা।

একটি ফাংশনাল কম্বাইন্ড সাইকেল মেন্টাল হোমের কি দরকার আছে। সিনেমার ভিতরে মিথ আকর্ষণীয় একটি বিষয়। উদ্ভট কাহিনী হিসাবে না নিয়ে মানুষ এটাকে খুবই উপভোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এসব ছবি বানাতে নানা রকমের টেকনিকাল সাপোর্টার দরকার পড়ে। কোন কোন ছবি আছে যেটা শুটিং না করে বরং কম্পিউটারের ভিতরেই জন্ম হয়। আর কিছু কিছু ছবি আছে যেসব ছবির মধ্যে স্টান্টম্যান দের ভূমিকা অত্যন্ত বেশি অর্থাৎ এরা ছাড়া ছবির শুটিং সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

মানুষ নিজেদের রক্তাক্ত কান্ডকারখানা গুলি সিনেমাতে তুলে এনে চলচ্চিত্রের আকর্ষন ধরে রাখতে মনে হচ্ছে আজকাল যেন বেশ প্রত্যয়ী হয়ে উঠছে।

  মানুষ নিজেদের রক্তাক্ত কান্ডকারখানা গুলি সিনেমাতে তুলে এনে চলচ্চিত্রের আকর্ষন ধরে রাখতে মনে হচ্ছে আজকাল যেন বেশ প্রত্যয়ী হয়ে উঠছে। সিনেমা ...